রাশিয়া থেকে সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের

রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকর করলে দেশটি থেকে পর্যাপ্ত মাত্রায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় থাকা নিয়ে জোর আশঙ্কা রয়েছে বাজারে।

রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকর করলে দেশটি থেকে পর্যাপ্ত মাত্রায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় থাকা নিয়ে জোর আশঙ্কা রয়েছে বাজারে। আবার ওপেক প্লাস অক্টোবর থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও এর মাত্রা বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। আবার বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীন এখন পণ্যটির মজুদ ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে বাজারে গতকাল দাম বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ৭৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৬ ডলার ৭৫ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলে ৫৮ সেন্ট বা দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬২ ডলার ৮৪ সেন্টে পৌঁছে।

রোববার ওপেক প্লাসের আট সদস্যদেশ অক্টোবর থেকে দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়ানো হয়েছিল। সে তুলনায় এবার বৃদ্ধির মাত্রা অনেক কম।

স্যাক্সো ব্যাংকের ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর ঘোষণার তুলনায় প্রকৃতপক্ষে জ্বালানি তেল উত্তোলন ততটা বাড়বে না। পাশাপাশি চীন দৈনিক প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল মজুদ করছে। এতে দাম বাড়ছে পণ্যটির।’

গানভর ট্রেডিং হাউজের চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট ফ্রেদেরিক লাসের জানান, চীন আগামী বছরও একই হারে মজুদ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে। এতে বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ কমে যাবে।

এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কাও দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে গেলে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বৈঠক বসবে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানো হতে পারে। সুদহার কমলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যায়।

এদিকে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে উদ্বৃত্ত কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রভাব রাশিয়ার উত্তোলন হ্রাস এবং বৈশ্বিক চাহিদার সম্ভাব্য বৃদ্ধি দুটোকেই ছাপিয়ে যেতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৫ সালের জন্য ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের (মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) মূল্য পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। ২০২৬ সালের জন্য গড় দাম যথাক্রমে ব্যারেলপ্রতি ৫৬ ও ৫২ ডলার হবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

আরও